দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

এল নিনোর প্রভাবে আগস্ট মাসে বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস জলবায়ু পরিবর্তন পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট মেরু অঞ্চল বাদে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ২১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। ইউরোনিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে সমুদ্রপৃষ্ঠের সর্বোচ্চ দৈনিক গড় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ২০২৪ সালের মার্চে, ২১ দশমিক ০৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে আগস্ট মাসের আগের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ২০ দশমিক ৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০২৩ সালে হয়েছিল, সেটিও ভেঙেছে।
সাধারণত দক্ষিণ গোলার্ধের গ্রীষ্মের প্রভাবে মার্চ ও এপ্রিল মাসে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। এরপর ধীরে ধীরে তা কমে আসে। কিন্তু এবার আগস্টেই নতুন রেকর্ড হওয়ায় সমুদ্রের দীর্ঘস্থায়ী উষ্ণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হওয়ায় সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ছে। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, শুধু এল নিনোর প্রভাবে এই রেকর্ড তাপমাত্রা তৈরি হয়নি। কয়েক দশক ধরে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনও সমুদ্রের দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণতার অন্যতম প্রধান কারণ।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়লে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের ঝুঁকি ও তীব্রতা বেড়ে যায়। এতে প্রবালপ্রাচীর, সামুদ্রিক ঘাসসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রজাতি নতুন এলাকায় চলে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মৎস্য ও জলজ চাষের ওপরও।
কোপার্নিকাসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের শুরুর তুলনায় বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের দিনের সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।
সমুদ্রের উষ্ণতা বাড়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব হলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। পানি উত্তপ্ত হলে প্রসারিত হয়, ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও বাড়ে। পাশাপাশি উষ্ণ সমুদ্র বায়ুমণ্ডলে বেশি তাপ ও জলীয়বাষ্প সরবরাহ করতে পারে। এতে কিছু অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও ঝড়ের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ছাড়া বায়ুমণ্ডলে থাকা অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইডের একটি বড় অংশ সমুদ্র শোষণ করে। তবে সমুদ্রের পানি যত উষ্ণ হয়, কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের সক্ষমতা তত কমে যায়। ফলে পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক কার্বন শোষক হিসেবে সমুদ্রের ভূমিকা ভবিষ্যতে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। সূত্র: ইউরোনিউজ
কে